ট্রাম্পের মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আদেশে নিরাপত্তা শংকায় আফগান সরকার - Shera TV ট্রাম্পের মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আদেশে নিরাপত্তা শংকায় আফগান সরকার - Shera TV

ট্রাম্পের মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আদেশে নিরাপত্তা শংকায় আফগান সরকার

সেরা নিউজ ডেস্ক:
কাতারে চলছে তালেবান ও আফগান সরকারের শান্তি আলোচনা। আলোচনার ভেতরকার খবর প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই গণমাধ্যমে কোনো পক্ষই কথা বলছে না। তবে রাকঢাক রেখেই কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা খবর প্রকাশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তারই ধারাবাহিকতায় সংবাদ মাধ্যমটি শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) জানায়, ট্রাম্প খুব শিঘ্রই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেবেন। এটিকে তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। যদিও আলোচনায় বসার শর্ত হিসেবে তালেবান আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে কথা বলেছিল। সে অনুযায়ী মার্কিন সরকার এবং তালেবানের সঙ্গে একটি চুক্তিও হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু সেনা প্রত্যাহারও করা হয়েছে। তবে উল্লেখ যোগ্য সেনা এখনো আফগানিস্তানে উপস্থিত হয়েছে। যাদের সঙ্গে নিয়মিত বিরতিতে সঙ্গর্ষে জড়াচ্ছে তালেবান। আফগান সরকার মার্কিন সমর্থিত হওয়ায় তালেবানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে আফগান সেনারাও।

প্রশিক্ষণ, অস্ত্র আর যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি মার্কিন ও ন্যাটো সেনাদের সহযোগিতা পেয়ে থাকে আফগান সেনারা। তাই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলে আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্টের দফতর। এই সঙ্গে এখনই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার না করার কথা বলছে তারা। এতে আফগানিস্তানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনতি হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছে অনেকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছরের ক্রিসমাসের (২৫ ডিসেম্বর) আগেই আফগানিস্তান থেকে সর্বশেষ সেনাকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তালেবান এক টুইটে তার এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘কাতারে এ বছরের শুরুর দিকে মার্কিন সরকার এবং তালেবানের মধ্যকার চুক্তির প্রতি সম্মান রেখে ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন তা অবশ্যই ইতিবাচক। এতে করে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে।’

তিনি বলেন, ‘তালেবান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং চুক্তি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। তালেবান কখনই চুক্তি লঙ্ঘণ বা আংশিক লঙ্ঘণ থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কাজ করবে তালেবানে।’

কিন্তু আফগান সরকারের শীর্ষ কূটনৈতিক আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ যিনি কাতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি বলেন, ‘এভাবে আফগানিস্তান থেকে হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র সব সেনা প্রত্যাহার করে নিলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গৃহযুদ্ধের মোড় ঘুরে গিয়ে তালেবানের হাতে গোটা দেশের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে।’

নয়াদল্লিতে গতমাসের শেষ সপ্তাহে সফর করেন আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ। সে সময় তিনি বলেন, ‘এটি ‘হজম’ করতে সময় লাগবে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই একদিন না একদিন মার্কিন সব সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কারণ আফগানিস্তানকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়া উচিৎ। কিন্তু এখন যেভাবে তাড়াহুড়ো করে সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে তার একটা নেতিবাচক প্রভাবতো আছেই।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সব সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে যে আকস্মিক ঘোষণা দিয়েছেন তা নাকচ করে দিয়েছে ন্যাটো সামরিক জোট। সংস্থার মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেছেন, সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে, একক সিদ্ধান্তে নয়। আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যখন অনুমোদন দেবে ঠিক তখনই শুধুমাত্র দেশটিতে ন্যাটো সামরিক জোট তাদের মিশন শেষ করবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী তালেবান আন্তর্জাতিক কোনো সেনাকে হত্যা করবে না। তবে সেটি যদি সেনা প্রত্যাহারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারে সেক্ষেত্রে তালেবানের সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এতে করে চুক্তি লঙ্ঘণ হবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে যদি চুক্তি লঙ্ঘণ করা হয় সেক্ষেত্রে তালেবানও আর চুক্তির শর্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকবে না। তখন পুরাতন জটিলতা নতুন করে সামনে আসবে দু’পক্ষের জন্য। এতে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ভেস্তে যাবে। একই সঙ্গে দু’পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস দানা বাধবে যেটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি করবে।

তবে, কাবুলে আফগান সরকারের যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। তাই কাতারে আলোচনা চললেও কাবুলে হামলা অব্যাহত রেখেছে তালেবান। অন্যদিকে মার্কিন চুক্তির অংশ হিসেবে তারা বিদেশি সেনাদের উপর হামলা বন্ধ করেছে। তাই তালেবানের একক লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে আফগান সেনারা।

 

সেরা নিউজ/আকিব

Developed BY: Shera Digital 360