ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:
তাইওয়ানকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে বলে গলা ফাটাচ্ছে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের সে দাবি কোনোই পাত্তা পাচ্ছে না। স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপদেশটির সঙ্গে তাদের দহরম মহরম অব্যাহত রয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ড্রোন-মিসাইলসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করেছে।
মঙ্গলবার কংগ্রেসকে কর্মকর্তারা এই কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাইওয়ান ৫০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। খবর রয়টার্স, আল জাজিরার।
সেপ্টেম্বরে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের আপত্তি সত্ত্বেও সাতটি বড় ধরনের অস্ত্রের চালান পাঠানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের আগেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজাইম (এমটিসিআর) বা আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থেকে আংশিক বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর এই প্রথম অত্যাধুনিক মিসাইল ও ড্রোন বিক্রির উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কংগ্রেসকে অস্ত্র রপ্তানির পরিকল্পনার কথা অবহিত করা হয়েছে। এমটিসিআর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর প্রযুক্তির প্রয়োজন। এমটিসিআর-এর কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে চুক্তির বাইরের দেশগুলো থেকে তারা ওই প্রযুক্তি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৭ সালের মিসাইল টেকনোলোজি কন্ট্রোল রেজিম (এমটিসিআর) চুক্তির শর্ত পুরোপুরি মানবে না।
জুলাই মাসে ট্রাম্প এমটিসিআর-এর যে পরিবর্তন অনুমোদন করেছেন, তাতে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ৮০০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ বেগে উড়তে পারা ড্রোন রফতানি করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত র্যাপার অ্যান্ড প্রিডেটর ড্রোনও বিক্রি করা যাবে। কী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্য নানা ধরণের ড্রোনও রফতানি করা যাবে।মঙ্গলবার অন্যান্য কংগ্রেশনাল প্রাক প্রজ্ঞাপনের মধ্যে ছিল স্থলভিত্তিক জাহাজবিধ্বংসী হারপুন ও ক্রুজ মিসাইল বিক্রয়।
খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। তারা বলেছেন, পাঁচধরনের অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাস থেকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্রবিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর আঘাত হানার মতো কাজ করতে যাচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের জন্য ক্ষতিকর কোনো পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
সেরা নিউজ/আকিব