ডেস্ক রিপোর্ট :
রাত পোহালেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর কাউন্সিলম্যান নির্বাচন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মাঠে থাকা প্রার্থী আর সমর্থকদের চোখ এখন নির্বাচনী ফলাফলের দিকে। তবে শেষ মুহুর্তে এসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মৌমিতা আহমদকে সমর্থন জানালেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে বার্নি স্যান্ডার্সের পোস্ট থেকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মৌমিতা নিজেও তার সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহুর্তে এসে প্রবীন রাজনীতিবিদ ও ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতার সমর্থন পাওয়াতে বেশ আমেজেই রয়েছেন মৌমিতার সমর্থকরা। কুইন্স এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ বলেন , বার্নি স্যান্ডার্স একজন প্রবীন রাজনীতিবিদ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার দল ডেমোক্র্যাট সরকার গঠন করেছে। এরকম একজন রাজনীতিবিদের সমর্থন পাওয়া সত্যিই গর্বের ব্যাপার। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু প্রার্থী হিসেবে মৌমিতা আহমেদ যোগ্য বলেই বার্নি স্যান্ডার্স তাকে সমর্থন দিয়েছেন। আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মৌমিতা আহমেদ বলেন মূলধারার রাজনীতিকদের অনেকেই পূর্বে সমর্থন জানিয়েছেন। আজ সমর্থন জানালেন বার্নি। আমরা আশা করছি এবার নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।’
তবে পিছিয়ে নেই অন্য বাংলাদেশি প্রার্থীরাও। কর্মী, সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনের পুরোটা সময় জুড়েই মাঠে ছিলেন তারা। হেলথ কেয়ার এক্সিকিউটিভ ড. দীলিপ নাথ আগেও এই আসনে নির্বাচন করেছেন। তাই পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারও শক্তভাবেই মাঠে আছেন তিনি। ড. দীলিপ জানান, কংগ্রেসম্যান টম সাওজি, স্টেট সিনেটর রক্সেন পরসডসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদরা তাঁর পাশে আছেন। অপরদিকে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মুজিব উর রহমানও একজন শক্ত প্রার্থী। কেননা বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নির্বাচন করা এবং এসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও তিনি অভিজ্ঞ। তাছাড়া ‘দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতির মাঠে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন সোমা সাইদ। করোনা মহামারির মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে থেকেছেন মানুষের পাশে। জয়ের ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী। তবে শেষ হাসিটা কার মুখে ফুটে ফুটবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত।
যে প্রক্রিয়ায় হচ্ছে ভোট: বিশেষ নির্বাচন হওয়ার কারণে এই ভোট হচ্ছে র্যাঙ্কিং চয়েজের মাধ্যমে। ভোটারদের অনেকেই এখনো জানেন না, র্যাঙ্কিং চয়েজের ভোট কীভাবে দিতে হয়। এই পদ্ধতিতে একজন ভোটারকে পাঁচজন প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে।র্যাঙ্কিং চয়েজের ভোটের নিয়ম হচ্ছে যতজন প্রার্থী আছেন, তাদের মধ্যে ১ থেকে ৫ নম্বর পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একজন ভোটার তার পছন্দের ক্রমানুসারে পাঁচজনকে ভোট দেবেন। ওই পাঁচজনের মধ্যে যদি একজন একাই ৫১ শতাংশ ভোট পান, তাহলে তিনি জয়ী হবেন। যদি কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫১ শতাংশ ভোট না পান, তাহলে ভোটারদের দেওয়া ভোট পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে ভাগ হবে। তবে যিনি ৫ নম্বরে থাকবেন, প্রথমে তার ভোট বাকি চারজনের মধ্যে ভাগ হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি বাদ পড়বেন তালিকা থেকে। এরপর চতুর্থ প্রার্থী, তৃতীয় প্রার্থী, দ্বিতীয় প্রার্থী এই রকম প্রার্থীদের ভোট বাকিদের মধ্যে ভাগ হবে। ভোট ভাগ করার পর যে দুজন শীর্ষ অবস্থানে থাকবেন, তাদের মধ্যে দ্বিতীয় জনের ভোটটি পাবেন প্রথম অবস্থানে থাকা প্রার্থী। চারজন প্রার্থীর ভোট ভাগ করার পর যদি প্রথম অবস্থানে থাকা প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের ৫১ শতাংশ ভোট পান, তাহলে তাকে জয়ী ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে কোনো প্রার্থীই ৫১ শতাংশ ভোট না পেলে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দুই প্রার্থীর মধ্যে একজনকে বিজয়ী করার জন্য আবার ভোট হবে।
উল্লেখ্য কুইন্সের ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর কাউন্সিলম্যান ররি ল্যাংকম্যান স্টেট গভর্নর অফিসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় পদটি শূন্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলের এই আসনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আর এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জন। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে আগাম ভোট শুরু হয়ে ভোট চলে ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত।
সেরা টিভি/আকিব