আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ ঘোষনা দিলেন শেফ খলিলুর রহমান - Shera TV
  1. [email protected] : akibmahmud :
  2. [email protected] : arafat.sheradigital :
  3. [email protected] : galib.nyc :
  4. [email protected] : t.m.a. hasib : t.m.a. hasib
আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ ঘোষনা দিলেন শেফ খলিলুর রহমান - Shera TV
বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ ঘোষনা দিলেন শেফ খলিলুর রহমান

সেরা টিভি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২

আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ ঘোষনা দিলেন শেফ খলিলুর রহমান। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুরুল হক হলে এক প্রেস কনফারেন্সে এই ঘোষনা দেন তিনি। এসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় শতাধিক সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক লাইফটাইম প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত সার্টিফাইড শেফ ও খলিল’স ফুড এর সিইও তার লিখিত বক্তব্যে বলেন

সবাইকে অপরাহ্নের শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আজকের এই উপস্থিতির জন্য।
আমি একজন প্রবাসী-উদ্যোক্তা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিশেষ ঘোষণা দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে আমি নিউইয়র্ক থেকে মাতৃভূমি বাংলাদেশে এসেছি এবং আজ আপনাদেও সামনে হাজির হয়েছি। আমরা সেই বিশেষ ঘোষণাটি দেবো- তবে তার আগে আমি আমার নিজের সম্পর্কে দু’চারটি কথা আপনাদের সামনে বলতে চাই।
আমি মোঃ খলিলুর রহমান। আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি; তবে পেশাগত কারণে গত বেশ ক’বছর যাবত আমেরিকার নিউইয়র্কে বসবাস করছি। আমি পেশায় একজন শেফ। নিউ ইয়র্কের অত্যন্ত সুপরিচিত খলিল বিরিয়ানি হাউজের প্রতিষ্ঠাতা, চিফ শেফ এবং সিইও। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে খলিল বিরিয়ানি হাউজ নিউ ইয়র্ক তথা পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত খাবারের ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে যেটি যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যপ্রেমীদের মোস্ট ফেভারেট প্লেস হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই নয়, স্থানীয় আমেরিকানসহ পৃথিবীর নানান দেশের মানুষের কাছেও আমাদের খাবারসমূহ সমান জনপ্রিয়।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা জেনে থাকবেন যে, শুধুমাত্র জনপ্রিয়তাই নয়, সুস্বাদু খাবার, খাবারের মান এবং অনন্য গ্রাহক সেবার স্বীকৃতি হিসেবে খলিল বিরিয়ানি হাউজের আছে উল্লেখযোগ্য অর্জন। গ্রাহক সেবায় অনন্য অবদানের জন্য খলিল বিরিয়ানি হাউজের স্বত্তাধিকারি এবং প্রধান শেফ হিসেবে আমি অর্জন করেছি যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রদত্ত সম্মানজনক পুরস্কার ‘প্রেসিডেন্সিয়াল লাইফ টাইম এ্যাওয়ার্ড’। এই তথ্যও হয়তো আপনাদের অনেকেরই জানা।
আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। কারণ, ২০২২ সালে আমি ‘কারি শিল্পের অস্কার’ হিসেবে অভিহিত ‘বৃটিশ কারি এ্যাওয়ার্ড’ও অর্জন করার সৌভাগ্য লাভ করেছি। যা নিঃসন্দেহে একজন বাংলাদেশি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার। সবার ভালোবাসা এবং গ্রাহক সেবায় খলিল বিরিয়ানি হাউজের ঐকান্তিক চেষ্টা যা সম্ভব হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই সম্মান ও গ্রাহকের পছন্দ আর ভালোবাসা আমাকে প্রতিনিয়ত ভালো করতে অনুপ্রাণিত এবং আরও দায়িত্বশীল করে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা জেনে অবাক হবেন, আমাদের যাত্রা কিন্তু খুব বেশি দিনের নয়। মাত্র ৫ বছরের কিছু বেশ সময় আগে ২০১৭ সালে নিউ ইয়র্কে খলিল বিরিয়ানি হাউজ যাত্রা শুরু করে। আর এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের খাবার মানুষের পছন্দের শীর্ষে চলে আসে। খাদ্যপ্রেমী ও গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান পছন্দের ধারাবাহিকতায় খলিল বিরিয়ানি হাউজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে একে একে যাত্রা শুরু করেছে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে আছে খলিল হালাল চায়নিজ, খলিল সুইটস অ্যান্ড বেকারি এবং আমেরিকান ফাস্টফুড খলিল পিৎজা এন্ড গ্রীল।

মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে এমন সাফল্যের কারণে প্রায়শই আমি মানুষের কাছ থেকে একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হই। অনেকেই আমার সফলতার রহস্য কি সেটা জানতে চান। আসলে রহস্য বলতে তেমন কিছু নেই। যা আছে, তা হলো প্রতিনিয়ত মানুষকে ভালো খাবার উপহার দেওয়ার চেষ্টা এবং শতভাগ সততা। কুলিনারিকে আমরা কখনো শুধু ব্যবসা হিসেবে দেখিনি। কারণ মুনাফা অর্জনই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়। এটি আমাদের কাছে একইসঙ্গে

সেবা এবং শিল্প। মানুষকে শৈল্পিকভাবে সুস্বাদু ও মানসম্পন্ন খাদ্য সেবা দেয়া আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আমরা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শুরু থেকেই আমরা এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। কারণ এটি আমার কাছে যতটা না পেশা তারচেয়ে অনেক অনেক বেশি নেশা এবং ভালোলাগা। মানুষকে সুস্বাদু এবং ভালো খাবার পরিবেশনের নেশা থেকেই আমি এই পেশায় এসেছি। তা না হলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংকে অনার্স-মাস্টার্স করা এই আমার হয়তো অন্য পেশায় যাবার কথা ছিল। কিন্তু নেশা এবং নিয়তি আমাকে বানিয়েছে শেফ।

তবে আমি আমার আজকের এই অবস্থান নিয়ে সম্মানিত এবং গর্বিত। কারণ এই পেশা আমাকে দিয়ে সম্মান, প্রতিষ্ঠা এবং অগণতি মানুষের ভালোবাসা। আর তাই প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের সামনে নতুন নতুন খাবার নিয়ে হাজির হওয়ার ব্যাপারটিতে আমি রোমাঞ্চ অনুভব করি। ব্যাপারটি আমাকে আনন্দ দেয়।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে, সাম্প্রতিককালে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নামানুসারে ‘বাইডেন বিরিয়ানি’ নামে নতুন একটি ডিশ চালু করেছি। ব্যতিক্রমী এই ডিশটি আমেরিকায় বেশ আলোচিত হয়েছে এবং জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভবিষ্যতে এরকম আরও কিছু ডিশ প্রচলনের ইচ্ছা আমাদের আছে।

নিজের সম্পর্কে অনেক কথা বললাম। আপনাদের আর অপেক্ষায় রাখবো না। এবার আসল কথাটা বলি। যে ঘোষণাটি দেওয়ার জন্য আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, এই ঘোষণাটি আমি প্রথমে লন্ডনে এবং পরবর্তীতে নিউইয়র্কেও দিয়েছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে নিজের মাতৃভূমিতে যদি ঘোষণাটি না দিতে পারি তাহলে অপূর্ণতা থেকে যাবে। কারণ যে আয়োজনের জন্য এই ঘোষণা তার একটি বড় অংশ জুড়ে আছে বাংলাদেশ।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
বেশ অনেক দিন যাবত একটি স্বপ্ন আমি নিজের মধ্যে লালন করছি। যা অবশেষে বাস্তবায়ন হওয়ার পথে। আর সেই বিষয়টি জানানোর জন্যই আজকের এই আয়োজন। আপনাদের মাধ্যমে দেশের মানুষকে আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, ‘বৃটিশ কারি এ্যাওয়ার্ড’ এর আদলে ‘আমেরিকান কারি এওয়ার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। যে এ্যাওয়ার্ডের প্রধান উদ্দেশ্যই হবে বাংলাদেশে খাবারকে বিশ^ দরবারে তুলে ধরা এবং জনপ্রিয় করা।
২০২৩ সালের শেষদিকে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে জমকালো ‘আমেরিকান কারি এওয়ার্ড ২০২৩’ এর প্রথম আয়োজন। আর ‘আমেরিকান কারি এওয়ার্ড’কে সস্পূর্ণভাবে সাপোর্ট দেবে ‘বৃটিশ কারি এ্যাওয়ার্ড’ কর্তৃপক্ষ। ‘বৃটিশ কারি এওয়ার্ড’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

আয়োজনগত দিক দিয়ে ‘আমেরিকান কারি এ্যাওয়ার্ড’ অনেকটা ‘বৃটিশ কারি এ্যাওয়ার্ড’-এর আদলেই হবে। তবে কিছু কিছু জায়গায় উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্যও থাকবে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে আয়োজনের ব্যাপ্তির জায়গায়। ‘বৃটিশ কারি এওয়ার্ড’ মূলত ইউকে বেইজড। শুধু বৃটেনের রন্ধনশিল্পীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন। কিন্ত ‘আমেরিকান কারি এ্যাওয়ার্ড’ শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হবেনা।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
‘আমেরিকান কারি এওয়ার্ড’ এর আয়োজন হবে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের রন্ধনশীল্পির জন্য এই আয়োজন থাকবে উন্মুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের রন্ধনশিল্পীরা যেমন এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন, তেমনি অংশ
নিতে পারবেন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইতালি, বৃটেনসহ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের রন্ধনশিল্পীরা। অর্থাৎ আমেরিকার কারি এ্যাওয়ার্ড হবে সবার জন্য উন্মুক্ত কারি শিল্পকে প্রমোট করার একটি বিশ^মঞ্চ।
এই আয়োজনের জুরি বোর্ডে থাকবেন বিশ্বখ্যাত মাস্টার শেফ এবং কুলিনারি বিশেষজ্ঞরা। সার্বিকভাবে ‘আমেরিকান কারি এওয়ার্ড’ হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের মূলধারার আয়োজন। এই আয়োজনে সিনেটর থেকে শুধু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আর ‘আমেরিকান কারি এওয়ার্ড’ এ ক্যাটাগরি হবে ১২ থেকে ১৫টির মতো। বর্তমানে আমরা খুঁটিনাটি সে-সব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। যা পরবর্তীতে আরও বিস্তারিতভাবে আরও বড় আকারে আমরা আপনাদের জানানোর আশা রাখি।

এখন হয়তো আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে কেন এই আয়োজন করতে যাচ্ছি আমরা?
আসলে ‘আমেরিকান কারি এ্যাওয়ার্ড ২০২৩’ আয়োজনের পেছনে নিশ্চিতভাবে আমাদের একটি উদ্দেশ্য আছে। আমরা জানি, ফুড হচ্ছে এমন একটি বিষয় যা একটি দেশের কালচারের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। ফুডকে বলা হয় ‘কালচারাল এম্বাসেডর’। আর তাই ফুড কালচারের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের খাবার এবং সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাই এবং জনপ্রিয় করতে চাই। একইসঙ্গে আমরা নিজেরাও পরিচিত হতে চাই বিশ্বের নানা প্রান্তের বৈচিত্র্যময় নানান খাবারের সঙ্গে এবং এসব খাবার যারা তৈরি করেন সেইসব রন্ধন প্রতিভাদের সঙ্গে।
‘আমেরিকান কারি এওয়ার্ড’ প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বের বৈচিত্র্যময় খাবার ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাবে। তবে প্রধান উদ্দেশ্য থাকবে বাংলাদেশের খাবারকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। বাংলাদেশের আকর্ষণীয় ও মুখোরচক সব খাবার এবং খাদ্য সংস্কৃতিকে আমরা বিশ্বজুড়ে পরিচিত করতে চাই।
পাশাপাশি কুলিনারি পেশাকে আরও বেশি জনপ্রিয় এবং নতুন প্রজন্মকে এই পেশায় আগ্রহী করা এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করাও আমাদের এই আয়োজনের আরেকটি উদ্দেশ্য।

আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। ‘আমেরিকান কারি এ্যাওয়ার্ড’ সেই স্বপ্নযাত্রার প্রথম পদক্ষেপ।
আমরা আশা করি, সবার সহযোগিতা পেলে ‘বৃটিশ কারি এ্যাওয়ার্ড’-এর মতো একদিন ‘আমেরিকান কারি এ্যাওয়ার্ড’ও রন্ধনশিল্প এবং রন্ধনশিল্পের অন্যতম গ্রহণযোগ্য এবং সম্মানীয় প্লাটফর্মে পরিণত হবে। হয়তো একদিন বৃটিশ কারি এ্যাওয়ার্ডকেও ছাপিয়ে যাবে ‘আমেরিকান কারি এ্যাওয়ার্ড’। যার মাধ্যমে বিশ^ময় ছড়িয়ে পরবে আমাদের বাংলাদেশের খাবারের সুনাম এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ বোধ করবে বিশ্ববাসী।

আমাদের এই যাত্রায় আপনাদের সবার সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি। আশা করি, আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ
© All rights reserved by Shera TV
Developed BY: Shera Digital 360