অষ্টম দফায় আরও ৫০০ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর - Shera TV অষ্টম দফায় আরও ৫০০ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর - Shera TV

অষ্টম দফায় আরও ৫০০ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর

স্টাফ রিপোর্টার:

অষ্টম দফায় ভাসানচরের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে নয়টি বাসে ৩৮৯ জন এবং বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ১৪৮ জন রোহিঙ্গা নিয়ে ছয়টি বাস উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে চট্টগ্রামের নেভাল ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর সপ্তম দফায় ৩৭৯ জন রোহিঙ্গা উখিয়া ত্যাগ করে,২৫ নভেম্বর পৌঁছান।

কক্সবাজার ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে উখিয়া-টেকনাফ ক্যাম্প থেকে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা ভাসানচর স্থানান্তর হবে।সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানানোর পর যারা স্বেচ্ছায় যেতে রাজি হচ্ছেন তাদের জড়ো করে নির্ধারিত একটি দিনে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝিদের (নেতা) মতে, ভাসানচর যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গারা স্ব স্ব ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে নাম জমা দেন। তবে ভাসানচরের পরিবেশ, থাকা খাওয়ার সুবিধা সম্পর্কে ব্রিফিং করার পর যারা যেতে রাজি হচ্ছেন তাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নিপীড়নের মুখে দেশটি থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। আগের ও তখনকার মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে বসবাস করছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

ঘর তৈরির পর গত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় স্বেচ্ছাগামী প্রায় ১৯ হাজার রোহিঙ্গা সেখানে পৌঁছালে তাদের দালানের একেকটি ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়। রোজার পর সেখানে অবস্থানকারীদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত ও আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠান। কিন্তু যাযাবরের জীবন অতিবাহিত করা রোহিঙ্গাদের অনেকে ভাসানচরের জীবন ফেলে সেখান থেকেও পালাতে শুরু করেন। রাতের আঁধারে ছোট নৌকায় নদী পার হতে গিয়ে ডুবে মরার ঘটনাও আছে।

কক্সবাজার-১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) নাইমুল হক নাইম জানান, দুই ভাবে বিভক্ত হয়ে রোহিঙ্গাদের আরও একটি দল শুক্রবার ভাসানচরের উদ্দেশ্যে উখিয়া ত্যাগ করেছে।গত ডিসেম্বর থেকে চলতি সময় পর্যন্ত আট দফায় প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরের অধিবাসী হয়েছে। এরা ছাড়াও গত বছরের মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়।

২০১৭ এর নভেম্বরে কক্সবাজার থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। আশ্রয়ণ-৩ নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।

সেরা টিভি/আকিব

Developed BY: Shera Digital 360