বাংলাদেশিদের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত সংঘর্ষে কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (এইবিএ)। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবার) আন্তদেশীয় কমিউনিটির কার্যনির্বাহী পর্ষদের ১৮তম সভায় বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার মতো সকল প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপ পরিহার করতে হবে।
পর্তুগালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ইউরোপের যে কোনো দেশে যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেজন্য দল-মতের উর্ধে থেকে, ঐক্যবদ্ধভাবে সদা জাগ্রত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন আয়েবা অ্যাডভাইজার লুতফর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ ফিরোজ, ফখরুল আকম সেলিম, ড. জিন্নুরাইন জাইগিরদার, রানা তাসলিম উদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল শরিফ আল মোমিন, জয়েন্ট ট্রেজারার শাহিনুল ইসলাম তালুকদার, বিজনেস অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি সুব্রত ভট্টাচার্য শুভ, কালচারাল সেক্রেটারি এমদাদুল হক স্বপন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার আজহার কবির বাবু, মাহারুল ইসলাম মিন্টু, মাহবুব সিদ্দিকী, মাঈনুল ইসলাম নাসিম, রহমান খলিলুর, সেলিম সোলায়মান, সোনিয়া আলম, তাপস বড়ুয়া রিপন, তারেক আহমদ ও টি এম রেজা।
বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আয়েবা নেতৃবৃন্দের সম্মানে একইদিন সন্ধ্যায় ফ্রান্সে দায়িত্বরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেনের সরকারি বাসভবন বাংলাদেশ হাউজে এক বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত ছাড়াও এসময় উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ডিফেন্স এটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমডি মহসিন, কাউন্সিলর (পলিটিক্যাল) এসএম মাহবুবুল আলম ও প্রথম সচিব নির্ঝর অধিকারী।
ইউরোপের দেশে দেশে আয়েবার গঠনমূলক সাংগঠনিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ২০১২ সাল থেকে প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষায় আয়েবা যেভাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে, তা যেন অব্যাহত থাকে।
আয়েবা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ড. জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত উল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অনুষ্ঠানে স্বাগতিক ফ্রান্স ছাড়াও ইতালি,পর্তুগাল, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, গ্রিস, পোল্যান্ড, লাটভিয়া, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, চেক রিপাবলিক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য থেকে আয়েবা সদস্যরা এ সভায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশি দুই ব্যবসায়ীর মাঝে চলতে থাকা বিরোধের জের ধরে এ হামলার সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের প্রায় চল্লিশজনের মত হামলায় জড়িয়ে পড়েন। গেল বছরের সেপ্টেম্বরে দুই পক্ষের মাঝে প্রথম মারামারির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে দীর্ঘ সময় এই বিরোধের জেরে গেল শনিবার তাদের দুই পক্ষের মানুষদের মাঝে আবারও সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের পরপরই সেখানে পুলিশ পৌঁছে যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের হামলা বলেও চালিয়ে দেয়া হয়। সৃষ্ট হামলার দুই পক্ষের মূল হোতাগণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বে থাকলেও এ হামলার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও ইন্ধন নেই বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সেরা নিউজ/আকিব